প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে
ফেনীর দাগনভূঞায় মেয়েকে অপহরণ, ধর্ষণ চেষ্টা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ছবি প্রকাশের অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারে বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) উপজেলার গজারিয়া বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মামলার বাদী মায়াধন ও তার মেয়ে ভুক্তভোগী নাজমা আক্তার। মায়াধন দাগনভূঞা উপজেলার গজারিয়া গ্রামের জয়নাল আবদীনের স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মায়াধন জানান, ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মেয়েকে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ছবি প্রকাশ করে তার সংসার ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে তিনি বাদী হয়ে দাগনভূঞা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে সাতজনকে আসামি করে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশে সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর মামলার ২ নম্বর আসামি সুমন ও ৩ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা কারাগারে যাওয়ার পর দিন ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের ব্যানারে আসামিদের পক্ষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বহিরাগত নিজাম উদ্দিন হুদন ও তার সহযোগীরা ওই মিছিলে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যেই তাকে ও মামলার সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।
মায়াধন আরও বলেন, অভিযুক্তরা তার গ্রাম ও বাড়ির আশপাশে দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ব্
যানার টানিয়ে মিছিল করে এবং অশালীন গালিগালাজ করে। তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী নিজাম উদ্দিন ভূঞা ও তার বাহিনী মামলা না তুললে তাদের উল্টো মিথ্যা ধর্ষণ ও অপহরণ মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্যের অজান্তে তাদের ছবি ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাগনভূঞা উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।